অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের সহজ ও সঠিক নিয়ম
বর্তমান সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত অনেক সেবা এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। আগে ছোট একটি ভুল ঠিক করতে নির্বাচন অফিসে বারবার যেতে হলেও এখন বেশিরভাগ সংশোধনের কাজ ঘরে বসেই করা সম্ভব। তাই আপনার ভোটার আইডি কার্ডে যদি নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম কিংবা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকে, তাহলে অনলাইনে আবেদন করে তা ঠিক করা যায়।
▣ কোন তথ্যগুলো সংশোধন করা যায়?
- নিজের নাম বাংলা বা ইংরেজিতে ভুল থাকলে
- জন্ম তারিখ ভুল থাকলে
- পিতা বা মাতার নাম ভুল থাকলে
- স্বামী / স্ত্রীর তথ্য পরিবর্তন হলে
- রক্তের গ্রুপ সংশোধন
- বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন
- অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য
▣ আবেদন করার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার সময় সঠিক প্রমাণপত্র দিতে হয়। তাই আবেদন শুরু করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করে স্ক্যান অথবা পরিষ্কার ছবি তুলে রাখুন। এতে আবেদন দ্রুত সম্পন্ন হবে।
নাম সংশোধনের জন্য
- শিক্ষা সনদ
- জন্ম নিবন্ধন
- পাসপোর্ট
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য
- এসএসসি / জেএসসি সার্টিফিকেট
- জন্ম নিবন্ধন
- পাসপোর্ট
পিতা-মাতার নাম সংশোধনের জন্য
- তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র
- নিজের শিক্ষা সনদ
বৈবাহিক তথ্যের জন্য
- কাবিননামা
- তালাকনামা
- মৃত্যু সনদ (প্রযোজ্য হলে)
▣ সংশোধন ফি কত?
| সেবা | ফি |
|---|---|
| মূল তথ্য সংশোধন | ২৩০ টাকা |
| অন্যান্য তথ্য | ১১৫ টাকা |
| একাধিক তথ্য একসাথে | ৩৪৫ টাকা |
| কার্ড রিইস্যু | ৩৪৫ টাকা |
▣ অনলাইনে সংশোধনের ধাপসমূহ
| ধাপ | কাজ |
|---|---|
| ১ | NID ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন |
| ২ | Face Verification সম্পন্ন করুন |
| ৩ | অ্যাকাউন্টে লগইন করুন |
| ৪ | ভুল তথ্য নির্বাচন করুন |
| ৫ | সঠিক তথ্য লিখুন |
| ৬ | ফি পরিশোধ করুন |
| ৭ | ডকুমেন্ট আপলোড করুন |
| ৮ | আবেদন জমা দিন |
▣ ধাপ ১ : অ্যাকাউন্ট তৈরি
জাতীয় পরিচয়পত্র সেবার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে NID নম্বর, জন্ম তারিখ এবং ঠিকানা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
▣ ধাপ ২ : Face Verification
NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে QR কোড স্ক্যান করতে হবে। এরপর মোবাইল ক্যামেরায় মুখ স্ক্যান করে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
- NID Wallet অ্যাপ ইন্সটল করুন
- QR স্ক্যান করুন
- মুখ ডানে-বামে ঘুরান
- ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন
▣ ধাপ ৩ : তথ্য পরিবর্তন
লগইন করার পর Profile অপশনে যান। তারপর Edit বাটনে ক্লিক করে যেসব তথ্য ভুল আছে সেগুলো ঠিক করুন।
▣ ধাপ ৪ : সরকারি ফি প্রদান
বিকাশ, নগদ অথবা রকেট ব্যবহার করে অনলাইনে ফি জমা দিতে পারবেন। (ভোটার আইডি কার্ডের যে তথ্য সংশোধন করবেন, তার উপর ভিত্তি করে ফি জমা দিবেন)।
উদাহরণ (bkash)
- Pay Bill এ যান
- Government Fee নির্বাচন করুন
- NID Service নির্বাচন করুন
- পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
▣ ধাপ ৫ : প্রমাণপত্র আপলোড
যে তথ্য সংশোধন করছেন তার প্রমাণপত্র আপলোড করুন। ফি প্রদানের রসিদও সংযুক্ত করুন।
▣ ধাপ ৬ : আবেদন সাবমিট
সব তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিন। পরে আবেদন কপি ডাউনলোড করে রেখে দিন।
▣ কতদিন সময় লাগে?
- সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়
- কিছু ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪৫ দিন লাগতে পারে
▣ সাধারণ প্রশ্ন
১) একাধিকবার সংশোধন করা যাবে?
২) ঠিকানা কি অনলাইনে বদলানো যায়?
৩) আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?
▣ জরুরি পরামর্শ
- সব তথ্য মিলিয়ে দেখে আবেদন করুন
- অস্পষ্ট ছবি আপলোড করবেন না
- মোবাইল নম্বর সচল রাখুন
- আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন
▣ শেষ কথা
ভোটার আইডি কার্ডে ভুল থাকলে দ্রুত সংশোধন করা উচিত। কারণ ব্যাংক, সিম, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কাজে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন ব্যবস্থার কারণে এখন এটি আগের তুলনায় অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছে।





0 Comments
post a comment