আমরা অনেকেই আছি যারা কিনা অনলাইনে লেখালেখি করতে চাই। এমনকি আবার অনেকে আছে যারা কিনা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও নিয়মিত লেখালেখি করেন। আর আপনার এই লেখাগুলোকে সারা বিশ্বের মাঝে তুলে ধরার অন্যতম একটি শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে ব্লগার। আর এই ব্লগিং করে লেখালেখি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্লাটফর্মও রয়েছে। আর এই প্ল্যাটফর্ম গুলোর মধ্যে ব্লগার হচ্ছে অন্যতম একটি । বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতেছেন। আজকের এই টপিকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব কেন আপনি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্লগার দিয়ে ব্লগিং করবেন আর এর সুবিধাইবা কি। যেগুলো আপনাকে ব্লগিং করতে কিছুটা হলেও সাহায্যে করবে ।
কেন ব্লগার দিয়ে শুরু করবেন :
ব্লগারদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম হলো blogger.com। পাইরা ল্যাবস নামে একজন ব্যাক্তি প্রথমে এটি তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে গুগল এটি কিনে নেয় এবং ব্লগারদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। গুগলের নিজস্ব সার্ভারে এটিকে হোস্ট করে। ব্লগার-এর স্বয়ংক্রিয় সাব-ডোমেইন হচ্ছে .blogspot.com। একজন নিবন্ধিত ব্যবহারকারী একটি এ্যাকাউন্টে অসংখ্য ব্লগ তৈরি করতে পারেন বিনামূল্যে। যেখানে এককভাবে বা যৌথভাবে আপনি সময়ের ক্রমানুসারে ব্লগে বিভিন্ন তথ্যবলী শেয়ার করতে পারবেন। আর এটি যেহেতু সম্পূর্ণ ফ্রি তাই নতুনদের জন্য লেখালেখি করার মাধ্যম হিসাবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ন।
ব্লগার দিয়ে ব্লগিং করার কয়েকটি সুবিধা
ডোমেইন ক্রয় না করেও ফ্রিতে ব্লগিং করতে পারবেন :
অনলাইনে লেখালেখি করার জন্য আপনার জীবনের প্রথম ওয়েবসাইটটি Blogspot.com এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করতে পারেন। ব্লগার দিয়ে ব্লগিং শুরু করলে নতুন অবস্থায় আপনাকে কোন প্রকার ডোমেইন না কিনলেও চলবে । পরবর্তী সময়ে চাইলে আপনি ডোমেইন কিনে নিতে পারেন, যেটা আপনার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার।
ব্লগার ছাড়া আপনি যদি ওয়াডপ্রেস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ডোমেইন ক্রয় করে তারপর আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে।
তাই বলা যায় যে ব্লগার দিয়ে ব্লগিং শুরু করলে ডোমেইন কেনার কোন ঝামেলা নেই।গুগল আপনাকেসম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার সুবিধা দিচ্ছে। এটি হলো ব্লগারের সর্বপ্রথম সুবিধা।
হোস্টিং ক্রয় করার প্রয়োজন নেই :
হোস্টিং হচ্ছে একটি সার্ভার যেখানে আপনি আপনার তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। মূলত এই হোস্টিং মাসিক বা বাৎসরিক চুক্তির মাধ্যমে কিনতে হয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে রিনিউ করতে হয়। এটি মোটামুটি একটা ঝামেলার ব্যাপার। ব্লগার ব্যবহার করে আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে কোন প্রকার হোস্টিং কিনতে হবে না। এই সার্ভিসটি গুগল আমাদেরকে ফ্রিতেই দিয়ে দিচ্ছে।
গুগলের একটি জিমেইল একাউন্টে 15 জিবি পর্যন্ত ফ্রি থাকে। এটি ব্যবহার করে মূলত হোস্টিং হয়ে যায়। তাই বলা যায় গুগোল এর প্রোডাক্ট ব্লগার ব্যবহার করে ব্লগিং করার দ্বিতীয় সুবিধাটি হচ্ছে কোন প্রকার হোস্টিং কেনার ঝামেলা নেই।
ফ্রি থিম ব্যবহার করতে পারবেন :
ব্লগার দিয়ে ব্লগিং করার আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে-এই প্ল্যাটফর্মটিতে গুগল আপনাকে অনেকগুলো ফ্রী থিম দিচ্ছে। যেগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে আকর্ষণীয় ডিজাইন দিতে পারবেন। আপনি চাইলে ব্লগারের প্রিমিয়াম থিম কিনে ব্লগার এর মধ্যে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এখানে কোন প্রকার এইচটিএমএল,সিএসএস, জাভা স্ক্রিপ্ট ইত্যাদির কোন ঝামেলা নেই।
দ্রুত গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভ হওয়া :
ব্লগার এবং গুগল অ্যাডসেন্স যেহেতু গুগল এর একই প্রোডাক্ট তাই ব্লগার ব্লগে হাল্কা পাতলা ভিজিটর ও সামান্য কিছু পোস্ট থেকেও গুগল অ্যাডসেন্স এ অ্যাপ্লাই করা যায় এবং তারা খুব তাড়াতাড়ি এপ্রুভ ও করে ।
উপরোক্ত সুবিধাগুলো ছাড়াও নতুন অবস্থায় নতুনদের জন্য ব্লগার ব্যবহারে আরো অনেক সুবিধা সমূহ রয়েছে। যেগুলো আপনাকে আপনার ব্লগার ক্যারিয়ারের শুরুতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে সাহায্যে করবে।
👁 Related Posts ↴
এই পোস্টে কোনো ভুল/আপডেট থাকলে আমাদের জানান
এই আর্টিকেলে কোনো ভুল তথ্য, বানান ত্রুটি, পুরোনো তথ্য, ভাঙা লিংক, প্রয়োজনীয় আপডেটের অভাব বা অন্য কোনো অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে অনুগ্রহ করে সংক্ষেপে জানিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
বাটনে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসের ইমেইল অ্যাপ বা Gmail-এ রিপোর্টটি অটো লিখে খুলে যাবে।
রিপোর্ট পাঠানোর জন্য ইমেইল উইন্ডো ওপেন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরাসরি না খুললে ব্রাউজারে Gmail খুলে যেতে পারে (বিশেষ করে কম্পিউটারে)।
আপনার প্রশ্ন দ্রুত খুঁজে পাবেন - নিচে সাধারণ ও কার্যকর সমাধানগুলো দেওয়া আছে।
সাইট-হোম পেইজে যান এবং মেনু বা ক্যাটাগরি লিস্ট থেকে (যেমন : Android Tricks, Mobile Banking, National University ইত্যাদি) পরীক্ষা করুন। অথবা পেজ-এ থাকা Search বা Older Posts ব্যবহার করুন। তবুও না পেলে Contact ফর্মে আপনি যা খুঁজছিলেন সেটি লিখে জানিয়ে দিন - আমরা সাহায্য করবো।
পোস্টের তারিখ চেক করুন - যদি পুরনো হয়, কমেন্ট/মেসেজ করে আপডেটের অনুরোধ দিন। আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলা নিয়মিত আপডেট করার চেষ্টা করি; নতুন তথ্য থাকলে শেয়ার করুন যাতে আমরা রিভিউ করে আপডেট করতে পারি।
ব্রাউজারের Cache/Cookies ক্লিয়ার করুন এবং আবার চেষ্টা করুন। VPN বা Ad-Blocker চালু থাকলে তা বন্ধ করে দেখুন। সমস্যাটি রয়ে গেলে Contact ফর্মে লিংক ও আপনার ব্রাউজার/ডিভাইস-বিস্তারিত পাঠান - আমরা লিংক যাচাই করে আপডেট দেব।
পোস্টে মন্তব্য করে আপনার প্রশ্ন লিখুন - আমরা বা অন্য পাঠকরা উত্তর দেব। চাইলে Contact ফর্মে বিস্তারিত পাঠিয়ে ব্যক্তিগত নির্দেশনাও চাইতে পারেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টেপ-বাই-স্টেপ আর্টিকেলগুলো দেখে নিতে পারেন।
Contact ফর্মে আপনার আইডিয়া/টপিক পাঠান। যদি সেটা অনেকের দরকার হয়, আমরা পরবর্তী আর্টিকেলে রাখার চেষ্টা করব।
প্রতিটি পোস্টের নিচে Facebook, WhatsApp, Telegram বা Social Share বাটন ব্যবহার করুন। না থাকলে URL কপি করে পাঠিয়ে দিন। শেয়ার করার আগে দয়া করে নিশ্চিত করুন যে কেউ ব্যক্তিগত বা সেনসিটিভ তথ্য পান না।
আর্টিকেলের নিচে থাকা comment/feedback ব্যবহার করুন অথবা Contact থেকে লিংক ও বিস্তারিত পাঠান। আপনার রিপোর্ট পেলে আমরা দ্রুত চেক করে আপডেট বা করেকশন করব - আপনার ফিডব্যাক সবার উপকারে আসে।
0 Comments
post a comment