জানা-অজানা বিভিন্ন বিষয়গুলো, অথবা সাম্প্রতিক কোন বিষয়সমূহ নতুন করে সহজ ও বোধগম্য ভাবে জানানো, কিংবা নিজের অভিব্যক্তি ও চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার একটি মাধ্যম হলো ব্লগিং। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, বিভিন্ন স্পনসরসিপ, অ্যাফিলিয়েশন ও অ্যাডভারটাইসমেন্ট থেকে ইনকাম সোর্স সৃষ্টি হওয়ার ফলে সারা বিশ্বে তথা বাংলাদেশেও ব্লগিং এর চাহিদা ক্রমশই বেড়েই চলেছে। আপনি যদি ব্লগিং শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার নিচের বিষয়গুলি জানা দরকার :
আপনি কোনো ব্লগিং নিয়ে কাজ করতে চান ?
ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করার পূর্বে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি চিন্তা করতে হবে তা হচ্ছে কেন ব্লগিং করবেন। যদি আপনার লেখালেখিতে আগ্রহ থাকে এবং মানুষকে কিছু শিখাতে চাচ্ছেন তাহলে আপনি ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। আপনার যে বিষয়ে ভালো জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে সে বিষয় নিয়ে কাজ করুন। তবে মনে রাখতে হবে ব্লগিং লাইফে সাফল্য পেতে কিছুটা সময় লাগে। তাই আপনি যদি শুধুমাত্র অর্থের জন্য ব্লগিং শুরু করেন আর ভাবেন কিছুদিনের মধ্যে ইনকাম করতে পারবেন তাহলে খুব অল্প সময়ে আপনি হেরে যাবেন। এর মানে এই না যে অর্থ উপার্জনের জন্য ব্লগিং করা যাবে না অথবা সাফলতা পাওয়া যাবে না। তবে আপনি ব্লগিং যেই উদ্যেশেই শুরু করেন না কেন, তার জন্য আপনাকে যথেষ্ট সময় ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করতে হবে, তাহলেই আপনি সাফল্য পাবেন।
ব্লগের জন্য সঠিক বিষয় সিলেক্ট করুন :
ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে নির্দিষ্ট বিষয় সিলেক্ট করে নিতে হবে যে বিষয়ে আপনার ভালো জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। যেকোন আর্টিকেল লেখার আগে কয়েকবার উক্ত আর্টিকেল সম্পর্কে রিসার্চ করে নিন। আপনি যেই বিষয়টি সিলেক্ট করেছেন তার ওপর যেন পর্যাপ্ত পরিমাণ সার্চ ভলিউম বা ট্রাফিক থাকে সে বিষয়ে সর্বদা খেয়াল রাখবেন। কারণ আপনি যদি এমন কোনো বিষয়ের ওপর আপনার ব্লগ সাইট তৈরী করেন যার সম্পর্কে খুবই কম লোক আগ্রহ দেখায় তাহলে আপনার উক্ত ব্লগ সাইটে কখনোই পর্যাপ্ত ভিজিটর আসবে না। যার ফলে আপনি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফল হতে পারবেন না। তাই অবশ্যই এমন বিষয়ের ওপরে ব্লগ সাইট তৈরী করবেন যেই বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি।
সঠিক ডোমেইন সিলেক্ট করুন :
ডোমেইন কিনার আগে অবশ্যই ডোমেইন নাম এর উপর গুরুত্ব দিবেন। যেন ডোমেইন নাম কখনো বড় না হয় এবং মানুষ খুব সহজে সার্চ করে খুজে নিতে পারে । আমাদের দেশে জনপ্রিয় কিছু ডোমেইন প্রকৃতি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম .com, .net, .org, .info ইত্যাদি। আর অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে, আপনার ডোমেইন নাম যাতে আপনার ব্লগ সাইটের বিষয়ের সাথে মিল থাকে। মনে রাখবেন সর্বদা জনপ্রিয় এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রোভাইডার থেকে ডোমেইন কিনবেন ।
হোস্টিং নেওয়ার সময় খেয়াল রাখুন :
হোস্টিং কেনার সময় অবশ্যই জনপ্রিয় এবং বিশ্বাসযোগ্য সাইট থেকেই হোস্টিং কিনতে হবে। লোভে পড়ে কখনো কম দামের হোস্টিং কিনবেন না, তাহলে পরবর্তী সময়ে আপনার প্রিয় সাইটটি যেকোন বিপদে পরতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অবশ্যই যাচাই করে নেবেন যেখান থেকে হোস্টিং কিনছেন তাদের কাস্টমার সাপোর্ট ২৪ ঘন্টা পাওয়া যায় কিনা।
থিম সিলেক্ট করুন :
একটি সাইটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক হচ্ছে ব্লগারের থিম। মনে রাখতে হবে আপনার ব্লগ সাইটের থিম সিলেক্ট করার পূর্বে অবশ্যই দেখে নিতে হবে, যাতে থিমটি সমস্ত ডিভাইসে রেস্পন্সিভ হয় এবং তার সাথে সাথে যেন SEO অপ্টিমাইজ হয়। অনলাইনে বহু থিম আছে যেগুলো ফ্রি এবং দেখতেও অনেক ভালো কিন্তু কোডিং যদি সঠিক ভাবে না হয়ে থাকে তাহলে আপনার সাইটটি লোডিং হতে প্রচুর সময় নিবে, যার ফলে আপনি ভালো পরিমাণ ভিজিটর কখনোই পাবেন না। আর সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি একটি প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করেন।
যে Page গুলো অবশ্যই ব্লগ সাইটে প্রয়োজন :
একটি ওয়েবসাইটে অবশ্যই About, Contact, Privacy & policy এই Page গুলো তৈরী করে নিতে হবে।এর ফলে আপনাদের ওয়েবসাইটটি যে একটি স্ক্যাম ওয়েবসাইট না তা গুগল সহ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন এবং ভিজিটররা বুজতে পারবে। আপনি যদি আপনার ব্লগ সাইটে গুগল এডসেন্স এড করতে চান তাহলে অবশ্যই এই পেজগুলো আপনার সাইটে থাকতে হবে।
ব্যাকলিংক তৈরী করুন :
চেষ্টা করবেন আপনার সাইটে আর্টিকেলগুলি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়তে শেয়ার করার। এতে আপনার সাইটের ব্যাকলিংক তৈরী হবে এবং অধিক পরিমাণে ট্রাফিক আসবে। একটি ওয়েবসাইটে বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসতে এবং কোনো সাইটকে রেঙ্ক করতে ব্যাকলিংক অনেক বড় ভমিকা পালন করে।
সাইট গুগলে ইনডেক্স করা।
আপনার ব্লগ সাইটটি সম্পূর্ণ তৈরী হয়ে গেলে অবশ্যই Google সার্চ ইঞ্জিন এর সাথে ইনডেক্স করাবেন। কারণ একটি সাইটকে নিজে থেকে ইনডেক্স হতে অনেক সময় লেগে যায় আর আপনি যদি ম্যানুয়ালি তা করেন তাহলে ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যেই আপনার সাইটটিকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে লাইভ হয়ে যাবে।
আজকে এই পর্যন্ত। যদি আমাদের সাইটের পোস্টগুলো আপনার একটু হলেও উপকারে আসে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর এই রকম নিত্যনতুন পোস্ট পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
👁 Related Posts ↴
এই পোস্টে কোনো ভুল/আপডেট থাকলে আমাদের জানান
এই আর্টিকেলে কোনো ভুল তথ্য, বানান ত্রুটি, পুরোনো তথ্য, ভাঙা লিংক, প্রয়োজনীয় আপডেটের অভাব বা অন্য কোনো অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে অনুগ্রহ করে সংক্ষেপে জানিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
বাটনে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসের ইমেইল অ্যাপ বা Gmail-এ রিপোর্টটি অটো লিখে খুলে যাবে।
রিপোর্ট পাঠানোর জন্য ইমেইল উইন্ডো ওপেন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরাসরি না খুললে ব্রাউজারে Gmail খুলে যেতে পারে (বিশেষ করে কম্পিউটারে)।
আপনার প্রশ্ন দ্রুত খুঁজে পাবেন - নিচে সাধারণ ও কার্যকর সমাধানগুলো দেওয়া আছে।
সাইট-হোম পেইজে যান এবং মেনু বা ক্যাটাগরি লিস্ট থেকে (যেমন : Android Tricks, Mobile Banking, National University ইত্যাদি) পরীক্ষা করুন। অথবা পেজ-এ থাকা Search বা Older Posts ব্যবহার করুন। তবুও না পেলে Contact ফর্মে আপনি যা খুঁজছিলেন সেটি লিখে জানিয়ে দিন - আমরা সাহায্য করবো।
পোস্টের তারিখ চেক করুন - যদি পুরনো হয়, কমেন্ট/মেসেজ করে আপডেটের অনুরোধ দিন। আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলা নিয়মিত আপডেট করার চেষ্টা করি; নতুন তথ্য থাকলে শেয়ার করুন যাতে আমরা রিভিউ করে আপডেট করতে পারি।
ব্রাউজারের Cache/Cookies ক্লিয়ার করুন এবং আবার চেষ্টা করুন। VPN বা Ad-Blocker চালু থাকলে তা বন্ধ করে দেখুন। সমস্যাটি রয়ে গেলে Contact ফর্মে লিংক ও আপনার ব্রাউজার/ডিভাইস-বিস্তারিত পাঠান - আমরা লিংক যাচাই করে আপডেট দেব।
পোস্টে মন্তব্য করে আপনার প্রশ্ন লিখুন - আমরা বা অন্য পাঠকরা উত্তর দেব। চাইলে Contact ফর্মে বিস্তারিত পাঠিয়ে ব্যক্তিগত নির্দেশনাও চাইতে পারেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টেপ-বাই-স্টেপ আর্টিকেলগুলো দেখে নিতে পারেন।
Contact ফর্মে আপনার আইডিয়া/টপিক পাঠান। যদি সেটা অনেকের দরকার হয়, আমরা পরবর্তী আর্টিকেলে রাখার চেষ্টা করব।
প্রতিটি পোস্টের নিচে Facebook, WhatsApp, Telegram বা Social Share বাটন ব্যবহার করুন। না থাকলে URL কপি করে পাঠিয়ে দিন। শেয়ার করার আগে দয়া করে নিশ্চিত করুন যে কেউ ব্যক্তিগত বা সেনসিটিভ তথ্য পান না।
আর্টিকেলের নিচে থাকা comment/feedback ব্যবহার করুন অথবা Contact থেকে লিংক ও বিস্তারিত পাঠান। আপনার রিপোর্ট পেলে আমরা দ্রুত চেক করে আপডেট বা করেকশন করব - আপনার ফিডব্যাক সবার উপকারে আসে।
0 Comments
post a comment